অকটেনের দাম লিটারে বাড়ল ৪৬ টাকা

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে বাড়ানো হয়েছে ৪৪ টাকা, অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয়েছে ৪৬ টাকা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে লিটারে ৩৪ টাকা। এখন প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম হবে ১৩০ টাকা, এক লিটার অকটেনের জন্য দিতে হবে ১৩৫ টাকা এবং এখন এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে লাগবে ১১৪ টাকা। গতকাল রাত ১০টার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে নতুন এই দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে রাত ১২টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়। দেশের ইতিহাসে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম এত পরিমাণে আগে বাড়েনি। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। তাতে দাম হয়েছিল ৮০ টাকা লিটার। তার আগে এই দুই জ্বালানি তেলের দাম ছিল লিটারে ৬৫ টাকা। গতকাল নতুন দাম ঘোষণার পর দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে ক্রেতারা। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। নতুন দামে বিক্রি করতে অনেক পাম্পের বিরুদ্ধে দুই ঘণ্টা বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগও এসেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এ পরিশোধিত এবং আমদানি/ক্রয়কৃত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায়ে এই দাম পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করে নাই। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা অ্যাডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্বিবেচনা করা হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিগত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রয়ে (সব পণ্য) ৮০১৪.৫১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করে থাকে। ভারত গত ২২ মে থেকে কলকাতায় ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৯২.৭৬ রুপি এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ১০৬.০৩ রুপি নির্ধারণ করেছে যা এখন বিদ্যমান আছে। এই মূল্য বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ১১৪.০৯ টাকা এবং ১৩০.৪২ টাকা। (১ রুপি=গড় ১.২৩ টাকা)। অর্থাৎ বাংলাদেশে কলকাতার তুলনায় ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৩৪.০৯ এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ৪৪.৪২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছিল। মূল্য কম থাকায় তেল পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *