বিয়ের চাপ দেওয়ায় চিকিৎসককে ঢাকায় এনে হত্যা!

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বেতগাড়ীর প্রতিবন্ধী পল্লী চিকিৎসক লাভলী খাতুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহবুবুল আলম ওরফে বিস্কুটকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল মান্নান মিয়া।

পুলিশ সুপার বলেন, ‌‘গত শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার আশুলিয়া থেকে মাহবুবুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার পশ্চিম বাইতুল জামে মসজিদের পাশে চারদিকে উঁচু প্রাচীর দেওয়া এক স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে লাভলীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।’
মান্নান মিয়া বলেন, ‘লাভলী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী। তিনি প্যারামেডিকেল থেকে পড়াশোনা শেষ করে রাণীনগর বেতাগী বাজারে ডিসপেনসারি খুলে মানুষের চিকিৎসা করতেন। পল্লী চিকিৎসক লাভলীর সঙ্গে একই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মাহবুবুল আলমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাহবুবুল লাভলীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও করেন। লাভলীর কাছ থেকে টাকাও ধার নিয়েছিলেন মাহবুবুল। বেশকিছু দিন ধরে মাহবুবুলকে টাকা ফেরত ও বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন লাভলী। কিন্তু মাহবুবুল নানা টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে লাভলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মাহবুবুল।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে মাহবুবুল আলম বিয়ে করার কথা বলে লাভলীকে অপহরণ করে আশুলিয়ায় নিয়ে যান। ওই দিন রাতে জিরাবো এলাকায় পশ্চিম বাইতুল জামে মসজিদের পাশে উঁচু প্রাচীর দেওয়া একটি স্থানে নিয়ে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তাকে। এরপর লাশ সেখানে পুঁতে রাখেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *