
এক মাসে (৭ জুন থেকে বৃহস্পতিবার ৮ জুলাই) খুলনা বিভাগে ৭৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা গত বছরের করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর অর্ধেকের চেয়ে ৬৮ জন বেশি। একইসঙ্গে শনাক্তের সংখ্যাও অর্ধেকের কাছাকাছি। ফলে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী ভর্তি হচ্ছে। অনেকে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরেও পাচ্ছেন না চিকিৎসাসেবা। প্রতিনিয়ত খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যুর মিছিল যেহারে বাড়ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সর্বমহল।
অসচেতনতা এবং সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় করোনার ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে। এ ছাড়া একবারে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে উপস্থিতি, পাকস্থলির কাযকারিতা ক্ষীণ নিয়ে ভর্তি, হাসপাতালে জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্বল্পতা, অক্সিজেন সংকট, সতকর্তার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উদাসীনতা ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না করায় মৃত্যুর সংখ্যা পারদের মতো উঠানামা করছে। এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনরা।
হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসক ও নার্সদের পাওয়া যায় না। রয়েছে অক্সিজেনেরও সংকট।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকে বৃহস্পতিবার (০৭ জুলাই) পর্যন্ত খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৪১৬ জন। যার মধ্যে গত ৭ জুন পর্যন্ত বিভাগে মোট মৃত্যু ছিল ৬৭৪ জন। আর গত ৭ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত একমাসে মৃত্যু হয়েছে ৭৪২ জনের। যা করোনায় মোট প্রাণহানির অর্ধেকের বেশি। এ ছাড়া গত ৭ জুন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৩৬ হাজার ৪১১ জনের শরীরে। আর বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত বিভাগে শনাক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৩১ জনের শরীরে।